Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন

লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য কী? এর অস্তিত্ব কি আদৌ অনস্বীকার্য?

সারকথা

কর্মক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর অর্জিত গড় আয়ের যে ব্যবধান, তাকেই মূলত লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য হিসেবে অভিহিত করা হয়।

রাকিবুল ইসলাম
লিখেছেন:রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৩•পড়তে ১৪ মিনিট লাগবে
লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য কী? এর অস্তিত্ব কি আদৌ অনস্বীকার্য?
লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য বা ‘জেন্ডার পে গ্যাপ’ একটি বিষয়, যা বিশ্বজুড়ে নিয়মিত বিতর্কের জন্ম দেয় এবং নানাবিধ আলোচনার সূত্রপাত করে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের গড় আয়ের পার্থক্যকে বোঝানো হয়। যদিও এই বৈষম্যের অস্তিত্ব এবং এর কারণগুলো নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা হয়েছে, তবুও এর ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। যদিও লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্যের বিষয়টি বহুল স্বীকৃত, তবুও এর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মতো যুক্তিও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই বৈষম্য কেবল লিঙ্গবৈষম্য বা কাঠামোগত কুসংস্কারের ফল নয়। তাদের দাবি, নারী ও পুরুষের মধ্যে জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক পার্থক্যের কারণে তাদের ক্যারিয়ার নির্বাচন, কাজের অগ্রাধিকার এবং গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট কিছু শিল্পে নারীর প্রতিনিধিত্ব কম হওয়াটা কাঠামোগত বাধার চেয়ে তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিফলনও হতে পারে। অধিকন্তু, পরিসংখ্যানগত তথ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু দৃষ্টান্ত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য সব শিল্প বা পেশার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি আয় করেন। এটি নির্দেশ করে যে, জেন্ডার পে গ্যাপ একটি বহুমাত্রিক বিষয় এবং এটি কেবল লিঙ্গ পরিচয়ের বাইরেও বিভিন্ন নিয়ামকের দ্বারা প্রভাবিত। বর্তমান প্রবন্ধে আমরা জেন্ডার পে গ্যাপের ধারণাটি বিশ্লেষণ করব, এর অস্তিত্বের বিপক্ষীয় যুক্তিগুলো খতিয়ে দেখব এবং একটি ন্যায়সংগত ও সাম্যবাদী আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামকগুলো পুনর্মূল্যায়নের গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করব।

জেন্ডার পে গ্যাপ বা লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য কী?

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী জেন্ডার পে গ্যাপ ছিল ১৬.২%; যার অর্থ, পুরুষরা যে পরিমাণ আয় করতেন, নারীরা তার গড়ে ৮৩.৮% আয় করতেন। কিন্তু জেন্ডার পে গ্যাপের প্রকৃত তাৎপর্য কী? বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝার জন্য এর যথাযথ সংজ্ঞায়ন প্রয়োজন। সাধারণত প্রতি ঘণ্টা বা বার্ষিক আয়ের শতাংশ হিসেবে নারী ও পুরুষের আয়ের যে পার্থক্য, তাকেই জেন্ডার পে গ্যাপ বলা হয়। এটি লিঙ্গভিত্তিক আয়ের অসম বন্টনকে নির্দেশ করে এবং কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীদের কম মজুরি পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে।

অধিকার কী? এর বৈশিষ্ট্য এবং শ্রেণীবিন্যাস

সম্পর্কিত বিশ্লেষণ
জনমত কী? আদৌ কি এর প্রয়োজন আছে?

বহুবিধ ব্যক্তির অভিমতের এক জটিল ও সমম্বিত রূপকেই 'জনমত' হিসেবে অভিহিত করা যায়।

রাকিবুল ইসলাম • অভিমত
সম্পূর্ণ পড়ুন →
যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ONS) অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ কর্মীদের গড় ঘণ্টাভিত্তিক আয়ের পার্থক্যকে পুরুষদের আয়ের শতাংশ হিসেবে হিসেব করে জেন্ডার পে গ্যাপ নির্ণয় করা হয়। এটি লিঙ্গগুলোর মধ্যে মজুরি বৈষম্যের একটি পরিমাপ প্রদান করে। এই গণনায় পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান, ভিন্ন ভিন্ন পেশা এবং অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার স্তরসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো স্বতন্ত্র কোনো ঘটনার চেয়ে বরং সার্বিক আয়ের পার্থক্যের একটি মানসম্মত পরিমাপ প্রদান করা।
লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য,
এটি মনে রাখা জরুরি যে, জেন্ডার পে গ্যাপ বা মজুরি বৈষম্যকে ‘সমান পারিশ্রমিক’ (Equal Pay) ধারণার সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। সমান পারিশ্রমিক হলো এমন একটি নীতি, যার অধীনে নারী ও পুরুষ উভয়ই সমমূল্যের কাজের জন্য একই ধরনের পারিশ্রমিক পাবেন। অন্যদিকে, জেন্ডার পে গ্যাপ পুরো কর্মক্ষেত্রের আয়ের বৈষম্যকে মূল্যায়ন করে, যেখানে সব ধরনের চাকরি ও পদমর্যাদাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। জেন্ডার পে গ্যাপকে প্রায়শই শতাংশের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যা নারী ও পুরুষের গড় ঘণ্টা বা বার্ষিক আয়ের পার্থক্য নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০% জেন্ডার পে গ্যাপের অর্থ হলো—পুরুষ প্রতি এক ডলার আয় করলে নারী আয় করেন ৮০ সেন্ট।

“জেন্ডার পে গ্যাপ” ধারণার বিবর্তন

ইতিহাসজুড়ে জেন্ডার পে গ্যাপ বিদ্যমান ছিল, তবে সময়ের সাথে সাথে এর মাত্রা এবং চালিকাশক্তি পরিবর্তিত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকাগুলো অধিকতর কঠোরভাবে সংজ্ঞায়িত ছিল, যেখানে নারীদের গৃহিণী হিসেবে এবং পুরুষদের প্রধান উপার্জনকারী হিসেবে প্রত্যাশা করা হতো। এই সামাজিক রীতি বৈষম্যকে স্থায়ী করেছিল এবং নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সুযোগকে সংকুচিত করেছিল। নারীবাদী আন্দোলনের উত্থান এবং লিঙ্গবৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে জেন্ডার পে গ্যাপ কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ১৯৭০ সালের সমান পারিশ্রমিক আইন (Equal Pay Act of 1970) এবং যুক্তরাষ্ট্রের লিলি লেডবেটার ফেয়ার পে অ্যাক্ট-এর মতো আইন ও নীতিগুলো মজুরি বৈষম্য দূর করতে এবং সমতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।

ওক সংস্কৃতি (Woke Culture) কী? এটি কেন বিতর্কিত?

মৌলিক লেখা আহ্বান • CONTRIBUTORS WANTED

মেরুনপেপারে আপনার চিন্তাশীল ও গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ করুন

আইন, রাজনীতি, দর্শন, অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতি বিষয়ে মৌলিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ লিখে পৌঁছে দিন অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের কাছে।

লেখা জমা দিন →
তবে অগ্রগতি সত্ত্বেও জেন্ডার পে গ্যাপ বিদ্যমান এবং এর মূল কারণগুলো বেশ জটিল। সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, অবচেতন কুসংস্কার এবং প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত বাধাগুলো এখনো মজুরি বৈষম্যের পেছনে ভূমিকা রাখছে। জেন্ডার পে গ্যাপ দূর করার প্রচেষ্টায় এমন একটি বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা কাঠামোগত অসমতাকে মোকাবিলা করবে এবং কর্মক্ষেত্রের এমন নীতি ও চর্চাকে উৎসাহিত করবে, যা সমকাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুরস্কার প্রদান করে।

যেসব ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আয় করেন

* প্রধান নির্বাহী (Chief Executives): পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৩৫.৩৩% বেশি আয় করেন। * উৎপাদন ও পরিচালন কর্মীদের সুপারভাইজার: পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৩৫.৩৭% বেশি আয় করেন। * বিক্রয় ও সংশ্লিষ্ট পেশা: পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৩৭.২০% বেশি আয় করেন। * চিকিৎসা সহকারী (Medical assistants): পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৩৯.৫৮% বেশি আয় করেন। * প্রযুক্তিবিদ এবং কারিগরি কর্মী: পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৪০.৮৮% বেশি আয় করেন। * ব্যক্তিগত আর্থিক উপদেষ্টা: পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৪২.০৮% বেশি আয় করেন। * মেডিকেল সায়েন্টিস্ট: পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৫০.৪৫% বেশি আয় করেন। * আইন পেশা: পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৫৯% বেশি আয় করেন। * সিকিউরিটিজ, পণ্যদ্রব্য এবং আর্থিক পরিষেবা বিক্রয় এজেন্ট: পুরুষরা এই ভূমিকায় নারীদের চেয়ে ৫৬.৮৪% বেশি আয় করেন। * রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এবং বিক্রয় এজেন্ট: পুরুষরা এই ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে ৬০% বেশি আয় করেন। * বিমা বিক্রয় এজেন্ট: পুরুষরা এই ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে ৫৬% বেশি আয় করেন। * সেলস ম্যানেজার: পুরুষরা এই ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে ৫৫% বেশি আয় করেন।

জেন্ডার পে গ্যাপের পেছনের নিয়ামকসমূহ

প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে লিঙ্গভিত্তিক আয়ের বৈষম্যের পেছনে বিভিন্ন নিয়ামক কাজ করতে পারে। নিরপেক্ষ প্রেক্ষাপটে এমন কিছু নিয়ামক নিচে দেওয়া হলো: ১. **সামাজিক রীতিনীতি এবং সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা:** বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রোথিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা ও প্রত্যাশা থাকে, যা পেশা নির্বাচন এবং কাজের ধরনকে প্রভাবিত করে। এই নিয়মগুলো ‘পেশাগত বিভাজন’ তৈরি করতে পারে, যেখানে নারী ও পুরুষদের ভিন্ন ভিন্ন শিল্প বা ভূমিকায় নিয়োজিত হতে দেখা যায়, যেগুলোর পারিশ্রমিকের হারও ভিন্ন। ২. **শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন:** শিক্ষাগত সুযোগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য জেন্ডার পে গ্যাপকে প্রভাবিত করতে পারে। মানসম্মত শিক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে অসম প্রবেশাধিকার নারীর ক্যারিয়ার পছন্দ এবং অধিক বেতনের চাকরির সুযোগকে সীমিত করতে পারে। ৩. **আইনি এবং নীতিগত কাঠামো:** সম-পারিশ্রমিক এবং লিঙ্গসমতা সম্পর্কিত আইন ও নীতির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি জেন্ডার পে গ্যাপের ওপর প্রভাব ফেলে। কিছু দেশে মজুরি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা থাকলেও অন্য অনেক দেশে এমন সুরক্ষা সীমিত বা অস্তিত্বহীন। ৪. **কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং ক্যারিয়ারে বিরতি:** সন্তান লালন-পালন বা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে নারীরা ক্যারিয়ারে বিরতির সম্মুখীন হতে পারেন, যা তাদের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। সাশ্রয়ী শিশুযত্ন সুবিধা এবং অভিভাবককালীন ছুটি বা নমনীয় কাজের ব্যবস্থার মতো সহায়ক নীতিগুলোর প্রাপ্যতা নারীদের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ৫. **অবৈতনিক শ্রম এবং গৃহস্থালি দায়িত্ব:** অবৈতনিক শ্রম এবং গৃহস্থালি দায়িত্বকে কেন্দ্র করে লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশা মজুরি বৈষম্যে অবদান রাখে। নারীরা প্রায়শই গৃহস্থালি ও যত্ন-সংক্রান্ত কাজের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বোঝার ভার বহন করেন, যা তাদের পূর্ণকালীন চাকরি বা অধিক বেতনের পদ অর্জনের ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। ৬. **পেশাগত বিভাজন এবং কুসংস্কার:** বিভিন্ন সমাজে পেশাগত বিভাজন দেখা যায়, যেখানে নির্দিষ্ট শিল্প বা পেশায় একটি লিঙ্গের প্রাধান্য থাকে। এটি সামাজিক কুসংস্কার, সাংস্কৃতিক রীতিনীতি এবং ঐতিহাসিক কারণের দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা বিভিন্ন খাতে নারী ও পুরুষের বন্টন এবং তাদের পারিশ্রমিককে প্রভাবিত করে। ৭. **দরকষাকষি এবং আত্ম-প্রচারণা:** ব্যক্তিগত দরকষাকষির দক্ষতা এবং নিজের যোগ্যতার পক্ষে কথা বলার ক্ষমতা পারিশ্রমিকের পার্থক্য তৈরি করতে পারে। দরকষাকষির ধরণ বা দৃঢ়তার বিষয়ে সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার ভিন্নতা একজন ব্যক্তির বেতন ও পদোন্নতি নিয়ে আলোচনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ৮. **তথ্যের স্বচ্ছতা এবং সচেতনতা:** বেতনের তথ্যের প্রাপ্যতা এবং স্বচ্ছতা বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করে। যেসব সমাজে বেতনের তথ্য উন্মুক্ত নয়, সেখানে মজুরি বৈষম্য শনাক্ত করা এবং তা সমাধানের পথ বের করা বেশ কঠিন। এটি স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে, জেন্ডার পে গ্যাপের নিয়ামকগুলো অঞ্চল এবং সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। নিরপেক্ষভাবে এই বিষয়গুলো বোঝা এবং সমাধানের জন্য সেই নির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি।

আমেরিকার ব্ল্যাকওয়াটার কী? কীভাবে তারা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়?

বিশেষ সুপারিশ
পুঁজিবাদঃ লাভের লড়াই নাকি বৈষম্যের খেলা?

পুঁজিবাদ হল একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপায় (যেমন কারখানা, জমি) ব্যক্তিদের মালিকানাধীন এবং বাজার মূলত সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চাহিদা ও সরবরাহের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

রাকিবুল ইসলাম • অভিমত
সম্পূর্ণ পড়ুন →

জেন্ডার পে গ্যাপ ধারণার অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো

ধরা যাক, একটি জেন্ডার পে গ্যাপ বিদ্যমান; আমাদের সব দিক বিবেচনা করতে হবে। জেন্ডার পে গ্যাপ নিয়ে বিদ্যমান ভুল ধারণাগুলোকেও আমরা অস্বীকার করতে পারি না। যদি পুরুষরা তাদের শ্রেষ্ঠ যোগ্যতা, সক্ষমতা এবং দক্ষতার কারণে নারীদের চেয়ে বেশি বেতন পান, তবে কেউ এসেই সমান বেতনের দাবি তুলতে পারেন না! যদি কেউ সমান বেতনের দাবি জানান বা বিষয়টি স্বীকার করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই সমান কাজ সমানভাবে করতে হবে; কাউকেই অন্যায়ভাবে দেখা উচিত নয়। যাই হোক, আসুন জেন্ডার পে গ্যাপ নিয়ে ভুল ধারণাগুলো বোঝার চেষ্টা করি।

লিঙ্গভেদে জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক পার্থক্য

লিঙ্গভেদে সহজাত জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক পার্থক্য ভিন্ন ভিন্ন ক্যারিয়ার পছন্দ এবং মজুরির ফলাফলে অবদান রাখে। প্রতিযোগিতার প্রতি পুরুষদের প্রবণতা বা কর্ম-জীবন ভারসাম্য (work-life balance) রক্ষায় নারীদের অগ্রাধিকারের মতো বিষয়গুলো ভিন্ন ভিন্ন পেশা ও পারিশ্রমিকের স্তর তৈরি করতে পারে। এটি বোঝার জন্য আমরা কয়েকটি পরিসংখ্যানে নজর দিতে পারি: ক. **জৈবিক পার্থক্য:** হরমোনের তারতম্য এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মতো জৈবিক নিয়ামকগুলো চাকরির ক্ষেত্র পছন্দের ভিন্নতায় অবদান রাখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষদের শরীরে গড়ে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকে, যা অধিক ঝুঁকি গ্রহণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের পছন্দের সাথে যুক্ত। এটি আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে কেন পুরুষরা ফিন্যান্স, ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে ক্যারিয়ার গড়তে বেশি আগ্রহী, যা অধিক প্রতিযোগিতামূলক বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। খ. **মনস্তাত্ত্বিক পার্থক্য:** জ্ঞানীয় ক্ষমতা, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য এবং আগ্রহসহ মনস্তাত্ত্বিক নিয়ামকগুলোও পেশা নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। মনে রাখা জরুরি যে, নারী ও পুরুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক পার্থক্য একেবারে চূড়ান্ত নয় এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্যও রয়েছে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা গড়ে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রের প্রতি কিছুটা বেশি আগ্রহী হতে পারেন। যেমন, গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষরা ভৌত বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রের প্রতি বেশি আগ্রহী, যেখানে নারীরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা বা সমাজবিজ্ঞানের মতো ক্ষেত্রগুলোতে অধিক আগ্রহ প্রদর্শন করতে পারেন। গ. **শারীরিক পার্থক্য:** শারীরিক সক্ষমতার তারতম্য নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক চাহিদাপূর্ণ পেশা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্মাণ বা কায়িক শ্রমের মতো পেশাগুলো, যেখানে শারীরিক শক্তি বা সহনশীলতার প্রয়োজন, সেখানে শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যের কারণে পুরুষ আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হতে পারে। তবে এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রতিটি লিঙ্গের মধ্যেই শারীরিক সক্ষমতার ব্যাপক তারতম্য হতে পারে এবং কেবল লিঙ্গভিত্তিক ধারণার ওপর ভিত্তি না করে স্বতন্ত্র সক্ষমতা যাচাই করা উচিত। ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (BLS)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরুষরা নির্মাণ, উৎপাদন এবং পরিবহনের মতো শারীরিকভাবে চাহিদাপূর্ণ পেশায় কাজ করার ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে এগিয়ে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে নির্মাণ ও খনন পেশায় কর্মীদের মধ্যে ৯৩% ছিলেন পুরুষ, যেখানে নারীর হার ছিল মাত্র ৭%। BLS আরও জানায় যে, অগ্নিনির্বাপণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সামরিক সেবার মতো বিপজ্জনক পেশায় নারীদের তুলনায় পুরুষদের অংশগ্রহণ বেশি। ২০২০ সালে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ৮৭%, পুলিশ কর্মকর্তাদের ৮৫% এবং সামরিক বাহিনীর তালিকাভুক্ত সদস্যদের ৯৮% ছিলেন পুরুষ।

চীনের উইঘুর সংখ্যালঘু কারা? তাদের সাথে কী ঘটছে?

পিউ রিসার্চ সেন্টারের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা তাদের হাতের কাজ উপভোগ করা এবং কঠোর পরিশ্রম করতে ইচ্ছুক হওয়ার কথা বেশি প্রকাশ করেন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা তাদের শারীরিক শক্তি নিয়ে বেশি গর্ববোধ করেন।

ভিন্ন ভিন্ন কাজের ধরন, অগ্রাধিকার এবং কাজের প্রকৃতি

ব্যক্তিগত আগ্রহ, যোগ্যতা এবং সামাজিক প্রত্যাশাসহ নানা কারণে নারী ও পুরুষ ভিন্ন ভিন্ন ক্যারিয়ার বেছে নেন। বিশ্লেষকদের মতে, নারীরা হয়তো এমন ক্ষেত্রগুলোর দিকে ধাবিত হন যা পারস্পরিক দক্ষতা (interpersonal skills) বা অধিক নমনীয়তাকে গুরুত্ব দেয়, যা উচ্চ বেতনের প্রচলিত পেশাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। ব্যক্তিগত আগ্রহ, যোগ্যতা এবং সামাজিক প্রত্যাশার সংমিশ্রণে নারী ও পুরুষ সাধারণত ভিন্ন ক্যারিয়ার পথ বেছে নেন। এর পেছনে প্রভাব বিস্তারকারী কিছু নিয়ামক নিচে দেওয়া হলো: ক. **ব্যক্তিগত আগ্রহ:** মানুষ সাধারণত তাদের ব্যক্তিগত আগ্রহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর দিকে ধাবিত হয়। ব্যক্তিগত ঝোঁক ও আবেগের ভিত্তিতে নারী ও পুরুষের পছন্দের ভিন্নতা থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু নারী জনসেবার মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার আকাঙ্ক্ষা থেকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা বা সমাজবিজ্ঞানে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। অন্যদিকে, সমস্যা সমাধান, উদ্ভাবন বা আর্থিক বাজারের প্রতি আকর্ষণের কারণে পুরুষরা প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফিন্যান্সের দিকে আগ্রহী হতে পারেন। খ. **যোগ্যতা ও দক্ষতা:** ক্যারিয়ার নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রভাব থাকে। জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রচুর সাদৃশ্য থাকলেও, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য গবেষণায় উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষরা গড়ে স্থানিক যুক্তি বা স্পেশাল রিজনিং (spatial reasoning) কাজে দক্ষ হতে পারেন, যা স্থাপত্য বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রে সুবিধাজনক। অন্যদিকে নারীদের মৌখিক যোগাযোগ বা সামাজিক অনুধাবন দক্ষতা শক্তিশালী হতে পারে, যা কাউন্সেলিং বা মার্কেটিংয়ের মতো ক্ষেত্রে মূল্যবান। গ. **সামাজিক প্রত্যাশা ও লিঙ্গভিত্তিক রীতিনীতি:** সামাজিক প্রত্যাশা এবং লিঙ্গভিত্তিক রীতিনীতি ক্যারিয়ার পছন্দকে উল্লেখযোগ্যভাবে রূপ দিতে পারে। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উপাদানগুলো প্রায়শই নারী ও পুরুষের জন্য ‘উপযুক্ত’ পেশার ধারণাকে প্রভাবিত করে। এই প্রত্যাশাগুলো ছোটবেলা থেকেই সামাজিকীকরণের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে শিশুরা লিঙ্গ-চিহ্নিত খেলনা, কর্মকাণ্ড এবং আদর্শ চরিত্রের সংস্পর্শে আসে। ফলে তারা তাদের লিঙ্গের জন্য কোনটি ‘প্রথাগত’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ ক্যারিয়ার—তা বিশ্বাস করতে শুরু করে। ঘ. **কর্ম-জীবন ভারসাম্য এবং পারিবারিক বিবেচনা:** পারিবারিক দায়িত্ব এবং কর্ম-জীবন ভারসাম্য ক্যারিয়ার পছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে নারীরা ক্যারিয়ার নির্বাচনের সময় যত্ন-সংক্রান্ত দায়িত্ব, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কাজের নমনীয় ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করেন। এই বিষয়গুলো কখনো কখনো এমন ক্যারিয়ারের দিকে ধাবিত করে, যা অধিক নমনীয় বা রিমোট কাজের সুযোগ দেয়। উল্লেখ্য যে, এই বিষয়গুলো নারী ও পুরুষের পেশাগত পার্থক্যে অবদান রাখলেও প্রতিটি লিঙ্গের মধ্যে ব্যক্তিগত পছন্দ ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভিন্নতা রয়েছে। অধিকন্তু, সামাজিক পরিবর্তন এবং লিঙ্গ ভূমিকা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ধীরে ধীরে প্রথাগত বাধাগুলো ভেঙে দিচ্ছে এবং ক্যারিয়ার নির্বাচনে অধিক বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করছে।

ভারতে সংখ্যালঘুরা কীভাবে নিপীড়িত হচ্ছেন?

একটি ন্যায়সংগত আলোচনার জন্য নিয়ামকসমূহ পুনর্কল্পনা

লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও সামগ্রিক আলোচনা নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিমাপকগুলোর সমালোচনা করা এবং ন্যায়বিচার ও সাম্য নিশ্চিত করতে বিকল্প নিয়ামকগুলো সামনে নিয়ে আসা প্রয়োজন। বিদ্যমান পরিমাপের সীমাবদ্ধতা ও কুসংস্কারগুলো স্বীকার করে এবং প্রথাগত মানদণ্ডের বাইরে গিয়ে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করার মাধ্যমে আমরা লিঙ্গভেদে আয়ের বৈষম্য সম্পর্কে অধিকতর গভীর উপলব্ধি অর্জন করতে পারি। জেন্ডার পে গ্যাপের ভুল ধারণাটি বোঝার জন্য আমরা বাস্তব চিত্র নিয়ে কথা বলতে পারি। বিশ্বজুড়ে পুরুষদের জনপ্রিয় ফুটবল ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (NFL), ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রিমিয়ার লিগ (EPL) এবং ফ্রান্স ও মোনাকোর লিগ ওয়ান। ২০২০/২১ মৌসুমে এই ইভেন্টগুলো থেকে অর্জিত মোট রাজস্ব ছিল—NFL-এর ক্ষেত্রে ১৭.০৩৫ বিলিয়ন ইউরো, EPL-এর ক্ষেত্রে ৫.৫৫ বিলিয়ন ইউরো এবং লিগ ওয়ানের ক্ষেত্রে ১.৫৭৫ বিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে, নারীদের জনপ্রিয় ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিফা নারী বিশ্বকাপ, উয়েফা নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগ (NWSL)। ২০১৯/২০ মৌসুমে এই ইভেন্টগুলো থেকে যথাক্রমে ১৩১ মিলিয়ন ইউরো, ২৪ মিলিয়ন ইউরো এবং ১১ মিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয় হয়েছে। আরেকটি বাস্তবতায় আসা যাক। নারীদের দেওয়া হয় ৩০ মিলিয়ন ডলারের পুল থেকে, আর পুরুষরা পান ৪০০ মিলিয়ন ডলারের পুল থেকে। এর কারণ কী? কারণ পুরুষদের বিশ্বকাপ ৬ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব উৎপন্ন করে, আর নারী বিশ্বকাপ করে ১৩১ মিলিয়ন ডলার। নারী বিশ্বকাপের খেলোয়াড়রা মোট রাজস্বের ২০% পান, যেখানে পুরুষ বিশ্বকাপের খেলোয়াড়রা পান মাত্র ৭%! আর আপনারা জেন্ডার পে গ্যাপ বা মজুরি বৈষম্যের কথা বলছেন? এই তুলনার পরিপ্রেক্ষিতে যে প্রশ্নটি সামনে আসে তা হলো—এই তুলনা কি জেন্ডার পে গ্যাপের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে? না, এটি তা করার উদ্দেশ্য রাখে না। বরং এই তুলনাটি দেখায় যে, নারীদের ক্রীড়া ইভেন্টগুলো এখনো সেই স্তরে পৌঁছায়নি যেখানে তারা মজুরি বৈষম্য নিয়ে সমান পর্যায়ে আলোচনার দাবি তুলতে পারে। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য তাদের আরও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বিষয়টি অনেকটা এমন যে, আপনার নিয়োগকারী যদি আপনার চেয়ে অন্যদের কাছ থেকে বেশি আউটপুট পান, তবে তিনি অবশ্যই তাদেরই পদোন্নতি দেবেন, যারা তার লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম। এর উল্টোটা করা হবে অবিচার। আপনি যদি পুরুষদের মতো একই পদোন্নতি বা বেতন চান, তবে আপনাকে একই পরিবেশে একই মানের কাজ করতে হবে। অন্যথায়, আপনার এই অযৌক্তিক দাবির জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত।

রেটিং

(নতুন)

শেয়ার

পাঠকের মন্তব্য ও পর্যালোচনা

(০)
মন্তব্য করতে Google বা Facebook দিয়ে লগইন করা আবশ্যক
রাকিবুল ইসলাম
রাকিবুল ইসলাম

লেখক (Author)

আইন, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমাজতত্ত্বের অনুসন্ধিৎসু গবেষক ও লেখক। মেরুনপেপারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও সাংবিধানিক বিষয়াবলী নিয়ে লিখছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আরও দেখুন →
জনমত কী? আদৌ কি এর প্রয়োজন আছে?অভিমত

জনমত কী? আদৌ কি এর প্রয়োজন আছে?

বহুবিধ ব্যক্তির অভিমতের এক জটিল ও সমম্বিত রূপকেই 'জনমত' হিসেবে অভিহিত করা যায়।

১৮ ডিসেম্বর ২০২২পড়ুন →
পুঁজিবাদঃ লাভের লড়াই নাকি বৈষম্যের খেলা?অভিমত

পুঁজিবাদঃ লাভের লড়াই নাকি বৈষম্যের খেলা?

পুঁজিবাদ হল একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপায় (যেমন কারখানা, জমি) ব্যক্তিদের মালিকানাধীন এবং বাজার মূলত সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চাহিদা ও সরবরাহের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

২২ মার্চ ২০২৪পড়ুন →
‘ওক’ সংস্কৃতি কী? কেন তা জনমানসে এমন প্রবল বিতর্কের জন্ম দেয়?অভিমত

‘ওক’ সংস্কৃতি কী? কেন তা জনমানসে এমন প্রবল বিতর্কের জন্ম দেয়?

‘ওক’ (Woke) সংস্কৃতি মূলত সামাজিক ন্যায়বিচারের এক বিশেষ রূপ, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের দাবি নিয়ে সরব।

২০ মে ২০২৩পড়ুন →
চীনের উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কারা? তাঁদের বর্তমান সংকটের স্বরূপই বা কী?অভিমত

চীনের উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কারা? তাঁদের বর্তমান সংকটের স্বরূপই বা কী?

চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে তুর্কিভাষী উইঘুর জনগোষ্ঠীর রয়েছে এক সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা রাষ্ট্রকাঠামোর অধীনে তাঁদের ওপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়ন ও বঞ্চনার চিত্র বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১ মে ২০২৩পড়ুন →

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।