Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন

নিজের কর্ম নিজের কাছেই ফিরে আসে

সারকথা

গত ১০০ বছরে মোটামুটি সারা বিশ্বে পশ্চিমা সকল প্রকার দর্শনের অভূতপূর্ব বিস্তৃতি ঘটেছে যা এর আগে ছিলো না। সেই দর্শনকেই আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে মানবজাতির সকল সমস্যার একটা সমাধান হিসেবে। কিন্তু সব ওষুধ যেমন সবখানে কাজ করে না, তেমনি ওই দর্শনের বিষক্রিয়াতে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়ে আস্তে আস্তে পশ্চিমে আগাচ্ছে।

নাজিন হাসান
লিখেছেন:নাজিন হাসান
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৩•পড়তে ৩ মিনিট লাগবে
নিজের কর্ম নিজের কাছেই ফিরে আসে

মানবসভ্যতায় এত এত বছর ধরে যে চড়াই উৎরাই গুলো এসেছে তা একটা প্রবাহমান ধারা হিসেবে দেখতে পছন্দ করি। এই যুগে এসে আমরা অনেক সময় ভেবে বসি যে আধুনিক যে রাষ্ট্র কাঠামো, যে সীমারেখা এটাই বুঝি চিরন্তন। কিন্তু কিছুকাল আগের ঘটনায় যদি আলোকপাত করি, দেখবো যে সেটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। 

আসলে সমস্যাটা একেবারে প্রকৃতিগত। পৃথিবীতে একটা সীমাবদ্ধ পরিমাণের সম্পদ আছে। এখন একজন মানুষের অভাব শুরু হয় যখন তার মনে নতুন কিছু পাওয়ার ইচ্ছে জাগে। আর এই ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ব্যাপারটা মানুষের মাঝে অসীমই বলা যায়। এর মধ্যে আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, সম্পদের সুষম বন্টন। এখানে এসে দেখা যায় মানুষের গায়ের জোর ঐ ইচ্ছের সাথে যোগ হয়েছে যা ঐ সুষমটাকে অসম করে। যার ফলে পৃথিবীর মোট সম্পদের মধ্যে জোয়ার-ভাটার একটা প্রতিচ্ছবি দেখা গিয়েছে। আর সম্পদের পিছনেই থাকে রাজনীতি, সমাজনীতি ইত্যাদি যা কিছু আছে। 

সম্পর্কিত বিশ্লেষণ
মক্কা চুক্তি: বাংলাদেশের যৌথ প্রতিরক্ষায় যোগদান কেন অপরিহার্য?

মক্কা চুক্তি ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়েছে, এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ ধরা হবে। বাংলাদেশের যুক্তি সহজ: সীমান্ত হত্যা, পানি আর ট্রানজিট — তিনটিতেই দরকষাকষির জায়গা এখন প্রায় শূন্য। এই লেখার দাবি, একটি যৌথ কাঠামো সেই জায়গাটা ফিরিয়ে দিতে পারে।

রাকিবুল ইসলাম • অভিমত
সম্পূর্ণ পড়ুন →

এখন আসি মূল কথায়। বলা যায় যে গত ১০০ বছরে মোটামুটি সারা বিশ্বে পশ্চিমা সকল প্রকার দর্শনের অভূতপূর্ব বিস্তৃতি ঘটেছে যা এর আগে ছিলো না। সেই দর্শনকেই আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে মানবজাতির সকল সমস্যার একটা সমাধান হিসেবে। কিন্তু সব ওষুধ যেমন সবখানে কাজ করে না, তেমনি ওই দর্শনের বিষক্রিয়াতে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়ে আস্তে আস্তে পশ্চিমে আগাচ্ছে। 

আরো পড়ুনঃ শরণার্থী সংকট নিয়ে নোয়াম চমস্কি

মৌলিক লেখা আহ্বান • CONTRIBUTORS WANTED

মেরুনপেপারে আপনার চিন্তাশীল ও গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ করুন

আইন, রাজনীতি, দর্শন, অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতি বিষয়ে মৌলিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ লিখে পৌঁছে দিন অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের কাছে।

লেখা জমা দিন →

এই ধারণাটা আজকে মাথায় আসলো ম্যাক্রোর চড় খাওয়া এবং একজন ইসলামিক স্কলারের (আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ) সেই ব্যাপারে একটা স্ট্যাটাস দেখার মাধ্যমে- 

"থাপ্পড় খাওয়া অসম্মানের হলেও, ম্যাক্রো যে থাপ্পড় খেয়েছেন তা কিঞ্চিৎ সম্মানের! একজন প্রেসিডেন্টের সাধারণ মানুষের হাতে থাপ্পড় খাওয়া মানে তিনি সাধারণ মানুষের আয়ত্বে থাকেন ও মানুষ তার নাগাল পায়! জনগনের খোঁজ খবর সরাসরি জনগনের কাছে নিতে গিয়ে ক্ষোভের স্বীকার তিনি! বহুস্তরের পাচিল তুলে একদম ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে জনগনের প্রেসিডেন্ট আর দায়িত্বশীল হওয়া যায়না!"

বিশেষ সুপারিশ
দেশ আর ৫ আগস্টের আগে ফিরবে না

ড. ইউনূস ও তার কিছু উপদেষ্টার সার্বভৌম চিন্তাকে বাংলাদেশের লব্ধপ্রতিষ্ঠিত আলোকিত সমাজ, ব্যবসায়ী, সিভিল-মিলিটারি বুরোক্র্যাসির সিনিয়র পর্যায়ের লোকরা ও ডিপস্টেট ভারত প্রভুর প্রতি বেয়াদবি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেটি বুঝেই ইউনূস প্রশাসনের যারা নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারে পদপদবি চান, তারা সমঝে চলেছেন। ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শিক্ষিত-মধ্যবিত্ত, তারা ঢাকার ভারত ভক্ত কালচারাল সাব-সোসাইটিতে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন।

মাসকাওয়াথ আহসান • অভিমত
সম্পূর্ণ পড়ুন →

এইযে পাঁচিল তোলার যে কথাটা বলা হলো সেটা তো মোটামুটি বলা যায় ইউরোপ/আমেরিকা ছাড়া বাকি বিশ্বের জন্যে একটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এখন এই চড় খাওয়ার পর সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় মনে হয় না যে তারা আর এইভাবে জনগণের সাথে মত বিনিময়ে যাবে। সুতরাং পাঁচিল ওঠা শুরু হলো। 

এখন আসি যে চড় মারলো তার কথায়। সে নিশ্চয়ই কোনো একটা ক্ষোভ থেকে এই কাজটি করেছে। কারণ যা ই হোক না কেন তা গ্রোথিত আছে ঐ সম্পদের অসম বন্টনের মধ্যেই। এতদিন ঐ অঞ্চলের মানুষ একটা সাম্যাবস্থার মধ্যে ছিলো বলে মনে করা যেতে পারে। কিন্তু নিশ্চিতভাবে অধঃগমন শুরু হয়েছে সেখানেও। 

সুতরাং সামাজিক উৎকর্ষতা কোনো অঞ্চলের নিজের সম্পত্তি না। এটা একটা সাইন কার্ভের মতো চলে। পৃথিবীর কোনো মানবসৃষ্ট দর্শনই পরম না। ভূল থাকে বলেই পরম সাম্যাবস্থা বলে কিছুই আমরা দেখি না। একদম প্রথমে বলা দুইটা কথা আমার মনে হয় এই বক্তব্যের মধ্যে এখন মানিয়ে যায়। 

রেটিং

(নতুন)

শেয়ার

পাঠকের মন্তব্য ও পর্যালোচনা

(০)
মন্তব্য করতে Google বা Facebook দিয়ে লগইন করা আবশ্যক
নাজিন হাসান
নাজিন হাসান

কন্ট্রিবিউটর ও অনুবাদক

আন্তর্জাতিক সাহিত্য, রাজনীতি ও তাত্ত্বিক দর্শনের গবেষক ও অনুবাদক।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আরও দেখুন →
মক্কা চুক্তি: বাংলাদেশের যৌথ প্রতিরক্ষায় যোগদান কেন অপরিহার্য?অভিমত

মক্কা চুক্তি: বাংলাদেশের যৌথ প্রতিরক্ষায় যোগদান কেন অপরিহার্য?

মক্কা চুক্তি ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়েছে, এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ ধরা হবে। বাংলাদেশের যুক্তি সহজ: সীমান্ত হত্যা, পানি আর ট্রানজিট — তিনটিতেই দরকষাকষির জায়গা এখন প্রায় শূন্য। এই লেখার দাবি, একটি যৌথ কাঠামো সেই জায়গাটা ফিরিয়ে দিতে পারে।

২৭ আগস্ট ২০২৬পড়ুন →
দেশ আর ৫ আগস্টের আগে ফিরবে নাঅভিমত

দেশ আর ৫ আগস্টের আগে ফিরবে না

ড. ইউনূস ও তার কিছু উপদেষ্টার সার্বভৌম চিন্তাকে বাংলাদেশের লব্ধপ্রতিষ্ঠিত আলোকিত সমাজ, ব্যবসায়ী, সিভিল-মিলিটারি বুরোক্র্যাসির সিনিয়র পর্যায়ের লোকরা ও ডিপস্টেট ভারত প্রভুর প্রতি বেয়াদবি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেটি বুঝেই ইউনূস প্রশাসনের যারা নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারে পদপদবি চান, তারা সমঝে চলেছেন। ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শিক্ষিত-মধ্যবিত্ত, তারা ঢাকার ভারত ভক্ত কালচারাল সাব-সোসাইটিতে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন।

৩ জুন ২০২৬পড়ুন →
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?অভিমত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

৫ মে ২০২৬পড়ুন →
ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতাঅভিমত

ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

১৪ অক্টোবর ২০২৫পড়ুন →

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।