Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন

নাগর্নো-কারাবাখ সংঘাত: দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে শান্তি

সারকথা

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আজারবাইজানের ভূখণ্ডে বিষাক্ত হয়ে থাকা নাগর্নো-কারাবাখ সমস্যার সমাধানকল্পে ১০ই নভেম্বর এক ঐতিহাসিক সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ওই দিন আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সামরিক সংঘাত অবসানের লক্ষে একমত পোষণ করে...

রাকিবুল ইসলাম
লিখেছেন:রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০২০•পড়তে ১২ মিনিট লাগবে
নাগর্নো-কারাবাখ সংঘাত: দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে শান্তি
নাগর্নো-কারাবাখ, যা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আজারবাইজানের জন্য একটি বিষফোঁড়া হয়ে ছিল, ১০ নভেম্বর অবশেষে তার উপশম হয়েছে। এই দিনে, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয় এবং বাস্তবতাকে মেনে নেয়। এই চুক্তির মাধ্যমে আর্মেনিয়ার দখলদারিত্ব এবং নাগর্নো-কারাবাখ সংকটের অবসান ঘটে। ১৯৮৮ সাল থেকেই দেশ দুটির মধ্যে একে অপরের ওপর আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। এই দ্বন্দ্বে উভয় দেশেরই অসংখ্য সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে অনেকেই। একপর্যায়ে আক্রমণ সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে তোলা হয়। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয় এবং বসতভিটা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। অবশেষে ১০ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দেশ দুটি যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এই চুক্তিকে নিজের ও তার জনগণের জন্য "ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক" বলে অভিহিত করেন এবং অন্যদিকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট একে "ঐতিহাসিক বিজয়" হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
নাগর্নো-কারাবাখ সংঘাত
স্বাভাবিকভাবেই, দুই নেতার বিবৃতির পর দুই দেশের নাগরিকরাই রাস্তায় নেমে আসেন—কেউ ক্ষোভে, কেউবা আনন্দে। আর্মেনীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করে; এসময় পার্লামেন্ট থেকে কম্পিউটার, পারফিউম, ঘড়ি ও আসবাবপত্র চুরির অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পার্লামেন্টে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আল জাজিরা কিন্তু নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে এই বেদনাদায়ক বা ঐতিহাসিক বিজয়ের গল্প দশকের পর দশক ধরে কেন চলছে? এই সংঘাতের নেপথ্যে কী ঘটছে? এই সংঘাত কি আদৌ প্রয়োজনীয় ছিল? এর মূলে কী রয়েছে? রাশিয়া ও তুরস্কের আগ্রহের কারণই বা কী? কেন এই দেশগুলো নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে নাক গলাচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে নাগর্নো-কারাবাখের ঘন অরণ্যঘেরা পর্বতমালায়।

সংঘাতের মূল বিষয়বস্তু কী?

এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হলো নাগর্নো-কারাবাখ। আজারবাইজানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই পার্বত্য অঞ্চলটি আজারবাইজানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড, যা আর্মেনীয় খ্রিস্টান অধ্যুষিত একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা। ৪,৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চলটি আজারবাইজানের জন্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ; এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী স্তেপনাকার্ত। অঞ্চলটি আজারবাইজানের সীমানার ভেতরে অবস্থিত হলেও আর্মেনিয়া সমর্থিত আর্ৎসাখ প্রজাতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তবে আর্মেনিয়া ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশই এই প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।

সংকটের জন্ম

ককেশাসের এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। তবে এই দুই জাতির জন্ম কোনো সহজ প্রক্রিয়ায় হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার পতনের পর, ১৯১৮ সালের ২৮ মে আজারবাইজান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কিন্তু মাত্র দুই বছর পর, ১৯২০ সালেই আজারবাইজান পুনরায় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একইভাবে, স্বাধীনতা ঘোষণার দুই বছরের মধ্যেই আর্মেনিয়াও রাশিয়ার অধীনে চলে আসে। ১৯২২ সালে এই দুই দেশকে ইন্টার-ককেশীয় সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯২০-এর দশকের শুরুর দিকে আজারবাইজানি সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকের অভ্যন্তরে "স্বায়ত্তশাসিত নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চল" বা নাগর্নো-কারাবাখ অটোনমাস ওব্লাস্ট (NKAO) গঠিত হয়। পরবর্তীতে, জোসেফ স্তালিন যখন সোভিয়েত ককেশীয় কমিটির প্রধান ছিলেন, তখন তিনি এই অঞ্চলটি আজারবাইজানের অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে এই অঞ্চল সৃষ্টির সময় বিভিন্ন নথিপত্রে উল্লেখ ছিল যে, এলাকাটি ‘আজারবাইজানের সাথে’ থাকবে, অর্থাৎ অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে। আল জাজিরা

স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের গঠন

১৯৩৬ সালে ইন্টার-ককেশীয় সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক ভেঙে তিনটি আলাদা প্রজাতন্ত্র—আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও জর্জিয়ায় বিভক্ত হয়। যেহেতু প্রতিটি প্রজাতন্ত্র নির্দিষ্ট সীমানা ও ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তাই ১৯৩৬ সালের পর নাগর্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়, যদিও এর স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বহাল থাকে। সংঘাতের সূত্রপাত এখান থেকেই হলেও তা তখন দৃশ্যমান ছিল না। কারণ নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের অখণ্ড অংশ। সেখানে আর্মেনীয় খ্রিস্টানদের পাশাপাশি বহু মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষও বসবাস করত। তখনকার সময় পর্যন্ত ওই অঞ্চলের মানুষ খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ আর্মেনিয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করলেও আর্মেনিয়া সরাসরি নাক গলায়নি। সংকট তীব্র আকার ধারণ করে ১৯৮৮ সালে, যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের তিন বছর আগে আর্মেনিয়ার মদদপুষ্ট নাগর্নো-কারাবাখের খ্রিস্টান জনসংখ্যা আর্মেনিয়া প্রজাতন্ত্রে যোগ দেওয়ার জন্য গণভোটের আয়োজন করে। রাশিয়া ও আজারবাইজান এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এই গণভোট আয়োজন ছিল আইনবহির্ভূত, কারণ তৎকালীন রাশিয়ার আইন অনুযায়ী নাগর্নো-কারাবাখ কেবল দুটি ক্ষেত্রেই ভোট দিতে পারত:
  • রাশিয়ার অধীনে থাকা, অথবা
  • আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে থাকা।
আজারবাইজানের অভ্যন্তরে অবস্থিত হওয়ার কারণে আর্মেনিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়া আইনত অসম্ভব এবং নিয়মবহির্ভূত। আজারবাইজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নাগর্নো-কারাবাখের স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো অধিকার নেই, তেমনি আর্মেনিয়ারও একে নিজ কর্তৃত্বে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো অধিকার নেই।

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার স্বাধীনতা

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান স্বাধীনতা লাভ করে এবং সোভিয়েত আমলের সীমানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়। সেই অনুযায়ী, নাগর্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি পায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরপরই ১৯৯১ সালে আর্মেনিয়া আজারবাইজানে প্রবেশ করে যুদ্ধ শুরু করে। ১৯৯২ সালে এই যুদ্ধে মালিবেলি, গুস্তুয়ালার, গারাদাফলি, আগাদাবান ও খোজালির মতো ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ১০ লাখ আজারবাইজানি নাগর্নো-কারাবাখ ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে বাস্তুচ্যুত হয়। প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার আজারবাইজানি আর্মেনিয়া থেকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আর্মেনীয় বাহিনীকে আজারবাইজান থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চারটি প্রস্তাব (৮২২, ৮৫৩, ৮৭৪ এবং ৮৮৪) পাস করে। এই প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে আর্মেনিয়াকে অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও তারা তা মানেনি। আর্মেনিয়া নাগর্নো-কারাবাখসহ আজারবাইজানের অন্তত ২০ শতাংশ এলাকা দখল করে রাখে। ১৯৯৪ সালে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

সিকিম কীভাবে ভারতের অংশ হলো?

কিন্তু কোনো পক্ষই এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলেনি। গত তিন দশকে দুই দেশের সীমান্তে মাঝেমধ্যেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, প্রাণ হারিয়েছেন অনেক মানুষ। ২০১৬ সালে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সীমান্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে। এ বছরের জুলাইয়ে যখন গোলাগুলি শুরু হয়, তখন রাশিয়া আর্মেনিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করে, যা শান্তি স্থাপনে বাধা সৃষ্টি করে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১৭ জন সৈন্য নিহত হয়।

পক্ষ, প্রতিপক্ষের লড়াই ও সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে 'মিনস্ক গ্রুপ' গঠন করা হয়। এর সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়া। কিন্তু এই গোষ্ঠী কখনোই সমাধানের পথে আসতে পারেনি; বরং বিভিন্ন সময়ে পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। যদিও আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া আপাতদৃষ্টিতে দুটি পক্ষ, কিন্তু তাদের নেপথ্যে উসকানি দাতার তালিকা বেশ দীর্ঘ। ককেশাস অঞ্চলটি যেকোনো জোটের জন্যই ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—সেটি ন্যাটো হোক কিংবা এশীয় জোট। তুরস্ক, রাশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, জর্জিয়া, ইতালি ও ফ্রান্স শুরু থেকেই এই দুই দেশকে কেন্দ্র করে দরকষাকষিতে লিপ্ত। কিন্তু কার অবস্থান কার পক্ষে? তা বোঝার আগে দেশগুলোর ব্যক্তিগত আদর্শিক অবস্থান জানা প্রয়োজন। তুরস্ক সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, ইরান শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, রাশিয়া খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ, ইসরায়েল ইহুদিপ্রধান, এবং জর্জিয়া, ইতালি ও ফ্রান্স খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
দেশধর্ম
তুরস্কসুন্নি ইসলাম – ৭৪%
রাশিয়াখ্রিস্টান – ৭৩%
ইরানশিয়া ইসলাম - ৯৫%
ইসরায়েলইহুদি - ৭৪%
জর্জিয়াখ্রিস্টান - ৮৮%
ফ্রান্সখ্রিস্টান - ৫১%
ইতালিখ্রিস্টান - ৮৩%
এই দেশগুলো ধর্মের ভিত্তিতে পক্ষ নিয়েছে কি না তা বিতর্কিত। তবে ধর্মীয় জোটের প্রশ্নের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিই জোট গঠনের মূল ভিত্তি। ঐতিহাসিকভাবে আর্মেনিয়া খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং আজারবাইজান শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এই দুই দেশের পক্ষে যারা দাঁড়িয়েছে...
আর্মেনিয়ার পক্ষআজারবাইজানের পক্ষ
ইরান, ফ্রান্স, ইতালিতুরস্ক, জর্জিয়া, ইসরায়েল

আর্মেনীয় জোট

রাশিয়া, ফ্রান্স ও ইরান আর্মেনিয়াকে ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ১৯ শতকে আজারবাইজান পারস্য ও ইরানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আজারবাইজানের ওপর থেকে আর্মেনিয়ার নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া ইরানকে ক্ষুব্ধ করেছে। শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরান কেন আজারবাইজানকে সমর্থন না করে আর্মেনিয়াকে সমর্থন করছে, তার কারণ হলো আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি। ফ্রান্স ও ইতালি তাদের ‘খ্রিস্টান ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ হিসেবে আর্মেনিয়াকে সমর্থন দিয়েছে; ইউরোপের ক্রুসেডের পর থেকেই আর্মেনিয়া কৌশলগত কারণে খ্রিস্টান প্রধান দেশগুলোর দিকে ঝুঁকেছে। ফলে তাদের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে, যদিও আর্মেনীয়রা তাদের নিজস্ব ধারার ‘আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স’ মতবাদ অনুসরণ করে।

আজারবাইজানি জোট

অন্যদিকে, আজারবাইজানের প্রধান মিত্র হলো তুরস্ক। তুরস্কের সাথে আজারবাইজানের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক মূলত বাণিজ্যিক। আজারবাইজান ইসরায়েল থেকে অস্ত্র কেনে এবং ইসরায়েল আজারবাইজান থেকে তেল আমদানি করে। ইসরায়েলের তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায় আজারবাইজান। আজারবাইজানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশই ইসরায়েল ও তুরস্ক থেকে কেনা। আজারবাইজান এই দেশগুলো থেকে কেনা ড্রোন ব্যবহার করেই আর্মেনিয়াকে পরাস্ত করেছে। জর্জিয়া হয়ে তুরস্কের পথে আজারবাইজানের তেল ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করে। আর্মেনিয়ার যুদ্ধংদেহী নীতি জর্জিয়াকেও আর্মেনিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কি বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র?

রাশিয়া উভয় পক্ষের সাথেই একধরনের 'সর্বজনীন' অংশীদার। রাশিয়া উভয় পক্ষকেই অস্ত্র সরবরাহ করে এবং সংঘাতের নেপথ্যে উসকানি দেয়। এর মূল কারণ আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান—উভয়ই রাশিয়ার ‘ছোট ভাইয়ের মতো’, যারা একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। তাই এই দুই দেশের মধ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, রাশিয়ার উপস্থিতি সেখানে অনিবার্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, ২০১৬ সালে রাশিয়ার প্রতি আর্মেনিয়ার কিছুটা অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে আজারবাইজান রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হয়। ২০২০ সালের প্রতিটি সংঘর্ষে রাশিয়া ভিন্ন ভিন্নভাবে জড়িত ছিল, কখনো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে, কখনো সমাধানকারী হিসেবে। ফ্রান্স ছিল আর্মেনিয়ার মিত্র, আর আমেরিকা তখন করোনা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগে রাশিয়া শান্তি স্থাপনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজের ঝুলিতে পুরে নিয়েছে।

সর্বশেষ সংঘাত

নাগর্নো-কারাবাখে মাঝেমধ্যেই আক্রমণ হয়। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া যুদ্ধটি গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ১৯৯১ সালের যুদ্ধে আর্মেনিয়া একতরফা আধিপত্য বিস্তার করলেও এরপর আর কখনোই তারা আজারবাইজানের ওপর সেই দাপট বজায় রাখতে পারেনি। উভয় পক্ষই সমানে সমান লড়াই করেছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। আর্মেনিয়া আজারবাইজানের প্রতিরোধমূলক আক্রমণে ভয়াবহভাবে পরাজিত হয়েছে। আজারবাইজান আকাশ ও স্থলপথে আর্মেনিয়াকে কড়া জবাব দিয়েছে। আজারবাইজান ইসরায়েল ও তুরস্ক থেকে কেনা ড্রোন ব্যবহার করে মূল যুদ্ধটি লড়েছে। নাগর্নো-কারাবাখের ভৌগোলিক অবস্থানে আর্মেনীয়রা এগিয়ে থাকলেও আজারবাইজানের ড্রোন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ড্রোন হামলায় আর্মেনিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ট্যাংক, ভারী অস্ত্রশস্ত্র, সাঁজোয়া বহর ও জনবলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাল্টা জবাবে আজারবাইজানের বেশ কিছু ট্যাংক বহরও ধ্বংস হয়েছে।

নাগর্নো-কারাবাখের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর শুশা বিজয়

যুদ্ধের ষষ্ঠ সপ্তাহে আজারবাইজান নাগর্নো-কারাবাখ ও এর আশপাশের দখলকৃত এলাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আজারবাইজান ধাপে ধাপে স্তেপনাকার্তের দিকে এগিয়ে যায়। ৮ নভেম্বর তারা অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর 'শুশা' পুনর্দখল করে। শহরটির পতন আর্মেনিয়াকে পিছু হটতে বাধ্য করে, কারণ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে শহরটি উভয় দেশের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্তেপনাকার্ত, যা নাগর্নো-কারাবাখের হৃদপিণ্ড, তা এখান থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে। এই শহরটির পতনের পর আর্মেনিয়ার আর লড়াই করার মতো অবস্থান ছিল না।

ইসরায়েলের সহিংসতাকে তার আসল নামে ডাকুন: সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত নয়

আজারবাইজান ১৯৯০-১৯৯৪ সালে হারানো ভূখণ্ডসহ নাগর্নো-কারাবাখের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা পুনর্দখল করেছে। গুরুত্বপূর্ণ শহর শুশার পতন আজারবাইজানের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮০ জনের বেশি আজারবাইজানি নিহত হয়েছে। নাগর্নো-কারাবাখ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্রায় ১,২০০ সৈন্য যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, যুদ্ধে প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। পরাজয়ের মুখে আর্মেনিয়া শর্তহীনভাবে শান্তি চুক্তিতে যেতে বাধ্য হয়। এই চুক্তি ছাড়া আর্মেনিয়ার সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তি চুক্তি

আর্মেনিয়ার সামনে নাগর্নো-কারাবাখ সংকট থেকে উত্তরণের দুটি পথ ছিল—আলোচনা অথবা সামরিক পথ। গত ছয় সপ্তাহের অস্থিরতায় সামরিক পথে কিছু করা অসম্ভব ছিল। **আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান জানান, সামরিক বাহিনীর চাপে তিনি এই চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছেন।** আল জাজিরা, তিনি ফেসবুকে লেখেন যে কারাবাখের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি এই চুক্তিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ১৯৯২ সালে মিনস্ক গ্রুপ গঠিত হওয়ার পর থেকে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি। আমেরিকা, ফ্রান্স ও রাশিয়ার উদ্যোগে কোনো অগ্রগতিই আসেনি; বরং আর্মেনিয়া প্রতিনিয়ত তাদের দখলদারিকে আইনত বৈধ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। এক কথায়, মিনস্ক গ্রুপ বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া যুদ্ধে উভয় পক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও কোনোটিই স্থায়ী হয়নি। তবে ১০ নভেম্বর রাশিয়া ও আজারবাইজান একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম এত বড় যুদ্ধের অবসান ঘটল। তবে এই চুক্তির মাধ্যমে আজারবাইজান মূলত তাদের পুনর্দখল করা ভূখণ্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। সকল সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে, আর্মেনিয়াকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হয়েছে এবং রাশিয়ার ১,৯৬০ জন শান্তিরক্ষী নাগর্নো-কারাবাখে মোতায়েন করা হয়েছে।

উভয় পক্ষের চুক্তির মূল শর্তাবলি

  • ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে চুক্তির পূর্ব পর্যন্ত আজারবাইজানের পুনর্দখল করা সকল এলাকা আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • চুক্তির মাধ্যমে সকল সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হবে। আর্মেনিয়া নাগর্নো-কারাবাখ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে। ১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
  • রাশিয়ার ১,৯৬০ জন সৈন্য শান্তিরক্ষী হিসেবে নাগর্নো-কারাবাখের ফ্রন্টলাইন ও লাচিন করিডোরে মোতায়েন থাকবে।
  • নাখচিভান থেকে আজারবাইজানের জন্য একটি নতুন করিডোর খোলা হবে।
  • উভয় দেশের যুদ্ধবন্দিদের বিনিময় করা হবে।
  • বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে বসতি স্থাপন করবে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে তুরস্ক এই শান্তি চুক্তি পর্যবেক্ষণ করবে এবং এতে অংশ নেবে, যদিও রাশিয়া বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দক্ষিণ ককেশীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণেই রাশিয়া এখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রাশিয়ার সৈন্য মোতায়েন এই চুক্তির বড় দিক। আজারবাইজানের জন্য এটি একটি বড় বিজয়, কারণ এর ফলে নাখচিভানের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলটিতে অবশেষে শান্তির সুবাতাস বইছে। এই পাঁচ বছরে নাগর্নো-কারাবাখ ও দক্ষিণ ককেশীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দুই দেশের পরবর্তী নীতি ও ভূ-রাজনীতির ওপর। আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে রাশিয়া যেন আফগানিস্তানের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের আঙিনায় আর কোনো ভুল না করে।

সেপ্টেম্বর উত্তেজনা

২০২১-২০২২ সালের আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্ত সংকট ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে ভয়াবহ রূপ নেয়। সীমান্ত সংঘর্ষে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান জানান, অন্তত ২০৪ জন আর্মেনীয় সৈন্য নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে। আজারবাইজানের সামরিক বাহিনীর ৮০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভারদেলিস, গোরিস, সোতক ও জারমুক শহরের কাছে আর্মেনীয় অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে কামান ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাদের বেশ কিছু ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নাসা’র স্যাটেলাইট চিত্র এই দাবিকে সমর্থন করে। আজারবাইজান দাবি করে, সীমান্ত এলাকায় আর্মেনীয় বাহিনীর সরবরাহ পথ বন্ধ করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আজারবাইজান সীমান্তে বেশ কিছু কৌশলগত উচ্চভূমি দখল করে। ১৩ সেপ্টেম্বর রাশিয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করার দাবি জানালেও তা শীঘ্রই ভেঙে যায়। ১৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত রাশিয়ার ককেশাসে প্রভাব কমে আসার সুযোগেই এই সংঘাত নতুন করে দানা বেঁধেছিল।

রেটিং

(নতুন)

শেয়ার

পাঠকের মন্তব্য ও পর্যালোচনা

(০)
মন্তব্য করতে Google বা Facebook দিয়ে লগইন করা আবশ্যক
রাকিবুল ইসলাম
রাকিবুল ইসলাম

লেখক (Author)

আইন, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমাজতত্ত্বের অনুসন্ধিৎসু গবেষক ও লেখক। মেরুনপেপারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও সাংবিধানিক বিষয়াবলী নিয়ে লিখছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আরও দেখুন →
গাজায় যুদ্ধবিরতিঃ সহিংসতার সাময়িক বিরতি নাকি স্থায়ী শান্তির পথ?রাজনীতি

গাজায় যুদ্ধবিরতিঃ সহিংসতার সাময়িক বিরতি নাকি স্থায়ী শান্তির পথ?

যুগ যুগ ধরে সংঘাত চলমান গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এক গভীর প্রশ্ন উঠে আসে: এটি কি সহিংসতার একটি সাময়িক বিরতি, নাকি একটি স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা?

১৯ জানুয়ারি ২০২৫পড়ুন →
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলারাজনীতি

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা

গত ২৯ শে ডিসেম্বরে জাতিসংঘের প্রধান অংগ সংগঠন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা দায়ের করে বেশ সাহসী একটি পদক্ষেপ নিয়েছে।

১৮ জানুয়ারি ২০২৪পড়ুন →
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?রাজনীতি

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—'হরমুজ প্রণালী' নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

২৭ মার্চ ২০২৬পড়ুন →
ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতাঅভিমত

ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

১৪ অক্টোবর ২০২৫পড়ুন →

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।